প্রাচীন বাংলার জনপদ কতটি। best world map

প্রাচীন বাংলার জনপদ কতটি

আপনি কি জানেন বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদের সংখ্যা কয়টি যদি না জেনে থাকেন তাহলে এখন জেনে নিতে পারেন তাহলে শোনেন প্রাচীন জনপদের সংখ্যা হচ্ছে মাত্র ৮ টি। এই ৮ টি জনপদ থেকে বাংলাদেশের অবস্থান এই পর্যন্ত চলে এসেছে। কালের পরিবর্তনে সব গুলি জনপদ বিলুপ্ত হয়ে চিরতরে হারিয়ে গেছে। সেই সময়ের জনপদ আর এখনকার সময়ের জনপদের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাবেনা।

আরো দেখুন : ঢাকা থেকে বগুড়া কত কিলোমিটার

ল্যাংড়া আম চেনার উপায় 

ঢাকা থেকে নওগাঁ কত কিলোমিটার

সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

বর্তমানে লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

সকালে খালি পেটে খেজুর খাওয়ার উপকারিতা

বর্তমানে দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

প্রতিদিন কয়টি লবঙ্গ খাওয়া উচিত

বর্তমানে রসুন খাওয়ার উপকারিতা কী

ওয়াল টাইলস ডিজাইন ২০২২

খুব সহজে হারানো মোবাইল ফিরে পাবেন

সেলাই মেশিন দাম ২০২২

আকিজ ফ্লোর টাইলস দাম ২০২২

এলজি ওয়াশিং মেশিন দাম ২০২২

কালোজিরার উপকারিতা কি কি

কালোজিরার ক্ষতিকর দিক গুলো কি

সিঙ্গার ফ্রিজ বাংলাদেশ প্রাইজ

সম্মানিত ভিজিটর ভাই ও বোনেরা সবার প্রতি সালাম ও ভলোবাসা জানিয়ে আজকের বিষয়টি শুরু করতে যাচ্ছি সেটি হলো প্রাচীন বাংলার জনপদ কতটি। প্রতি দেশেই এক সময় পূর্বের জাতি থেকে এই পর্যন্ত চলে এসেছে সময়ের সাথে কালের পরিবর্তনে সেই সব জন গুষ্টি অঞ্চল বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আজ আপনাদের মাঝে সেই সব জন গুষ্টির প্রাচী নিয়ে কথা বলবো আশা করি আমাদের ওয়েবসাইটের সাথেই থাকবেন।

প্রাচীন বাংলার জনপদ কতটি

প্রাচীন বাংলার জনপদ কতটি

আপনি কি জানেন বাংলা নামের একটি অখণ্ড দেশের জন্ম একবারে হয়নি অনেক বার ভাঙা মচকার পর জন্ম হয়েছে। এর যাত্রা শুরু হয় বিভিন্ন জনপদগুলোর মধ্য দিয়ে। ‍উৎকীর্ণ শিলালিপি ও বিভিন্ন সাহিত্যগ্রন্থে প্রায় ১৬টি জনপদের কথা জানা যায়। তবে প্রতিটি অঞ্চলের সীমা সবসময় একই রকম থাকেনি বিভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। কখনোও কোনো জনপদের সীমা বেড়েছে, আবার কখনো কমেছে এই নিয়েই চলছিল বাংলার জনপদ। নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য জনপদের বর্ণনা দেওয়া হলো:

(১) বঙ্গ জনপদ : ‘বঙ্গ’ একটি অতি প্রাচীন জনপদ বলে অভিহিত। বর্তমান সেই সময় বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের দিকে বঙ্গ জনপদ নামে একটি অঞ্চল গড়ে উঠেছিল। অনুমান করা হয়, বিভিন্ন বই পুস্তুকে জানা যায় এখানে বঙ্গ বলে একটি জাতি নাকি বাস করতো। তাই জাতির নামেই জনপদটি পরিচিত হয় বঙ্গ নামে। প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুইটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়- এটি বিক্রমপুর, আর অন্যটি নাব্য। বর্তমানে নাব্য বলে কোনো জায়গার অস্তিত্ব নেই বললেই চলে খুঁজে পাওয়ায় যায়না বিলুপ্ত হয়ে গেছে চিরতরে। তবে ধারণা করা হয়, ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি এ নাব্য অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানা যায়।

(২) গৌড় জনপদ: ‘গৌড়’ নামটি সবার কাছে সুপরিচিত হলেও প্রাচীনকালে কোথায় গৌড় জনপদটি ঠিক গড়ে উঠেছিল তা কিন্ত এখনো জানা যায়নি। তবে ষষ্ঠ শতকে পূর্ব বাংলার উত্তর অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা গেছে। সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে রাজাকে গৌড়রাজ বলা হতো। এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। বর্তমান ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান। বাংলায় মুসলমানদের বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

আরো দেখুন : শার্প ফ্রীজ দাম ২০২২

ওয়াল্টন রুম হিটার দাম ২০২২

এয়ার কুলারের দাম ২০২২

হিকভিশন সিসি ক্যামেরা দাম ২০২২

শার্প ওয়াশিং মেশিন দাম ২০২২

হ্যান্ড ওয়াশ এর দাম ২০২২

এশিয়া সিলিং ফ্যান দাম

 

(৩) পুণ্ড্র জনপদ: প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পুণ্ড্র যা এখন বর্তমানে উত্তরবঙ্গের বগুড়া জেলা মহাস্থান এ অবস্থিত। জানা যায় যে, পুণ্ড্র নামে একটি জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল বলে জানা যায়। বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটি সৃষ্টি হয়েছিল। পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। পরবর্তীকালে এর নাম হয় বগুড়ার মহাস্থানগড়। মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ। পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপি এখানে পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে প্রাপ্ত এটিই প্রাচীনতম শিলালিপি

(৪) তাম্রলিপ্ত জনপদ: হরিকেলের দক্ষিণে অবস্থিত। ছিল তাম্রলিপ্ত জনপদ। বর্তমান ভারতের মেদিনীপুর জেলার তমলুকেই ছিল তাম্রলিপ্তের প্রাণকেন্দ্র। সপ্তম শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।

(৫) চন্দ্রদ্বীপ জনপদ: প্রাচীন বাংলায় আরও একটি ক্ষুদ্র জনপদের নাম পাওর্য়া যায়। এটি হলো চন্দ্রদ্বীপ। বর্তমান বরিশাল জেলাই ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখণ্ড ও প্রাণকেন্দ্র। এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। বরিশাল এক সময় চরঅঞ্চল হিসেবে অভিহিত ছিল। সময়ে সাথে মানুষের পরিবর্তনে চন্দ্রদ্বীপ অঞ্চল হারিয়ে গেছে রয়ে গেছে শুধু স্মৃতি।

(6) বরেন্দ্র জনপদ: বরেন্দ্রী, বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি নামে প্রাচীন বাংলায় অপর একটি জনপদের কথা জানা যায়। এটিও উত্তরঙ্গের একটি জনপদ। অনুমান করা হয়, পুণ্ড্রের একটি অংশ জুড়ে বরেন্দ্রর অবস্থান ছিল। বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক অঞ্চল এবং সম্ভবত পাবনা নাটোর , চাঁপাইনবাবগঞ্জ এই জেলাজুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল। সময়ের পরিবর্তনে আজ জাতির কাছে বিলুপ্ত হয়ে গেছে শুধু পরে রয়েছে তাদের নাম নিশানা বিভিন্ন বইপুস্তুকে।

(৭) হরিকেল জনপদ: সপ্তম শতকের লেখকরা হরিকেল নামে অপর একটি জনপদের বর্ণনা করেছেন। এ জনপদের অবস্থান ছিল বাংলার পূর্ব প্রান্তে। ধারণা করা হতো, আধুনিক সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই অঞ্চলের জনপদ বিস্তৃত ছিল। কালের বিবর্তনে আজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে এই সব জনপদ।

(৮) সমতট জনপদ: পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের প্রতিবেশী জনপদ হিসেবে সমতটের অবস্থান। কেউ কেউ ধরণা করেন, সমতট হচ্ছে বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম। গঙ্গ-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী অঞ্চলকেই সম্ভবত বলা হতো সমতট। কুমিল্লা শহরের ১২ মাইল পশ্চিমে বড় কামতা এর রাজধানী ছিল। কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে। শালবন বিহার এদের অন্যতম। তবে সবাই মনে করেন কুমিল্লা হচ্ছে সমতট প্রাচীন জনপদ । প্রাচীন বাংলার জনপদ কতটি I

 

প্রাচীন বাংলার জনপদ থেকে আমরা তখনকার বাংলার ভৌগোলিক অবক্ষয় , সীমারেখা, রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি সম্পকে মোটামুটি ধারণা লাভ করতে পারি। প্রাচীন বাংলায় তখন কোনো রাজনৈতিক ঐক্য ছিল না। শক্তিশালী শাসকগণ তাদের আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে একাধিক জনপদের শাসন ক্ষমতা লাভ করতেন। এই সব শাসকগণ নিজেদের বাহিনী দ্বারা সমাজ রাষ্ট্র পরিচালিত করতো। এই সব শাসক ছিল অনেক বেশি শক্তি শালী তাদের সামনে কেউ মাথা উঁচু করে কথা বলার ক্ষমতা রাখতে পারতোনা। শাসকরা যা বলতো তাই মেনে নেয়া লাগতো। কখনো কখনো সেই অঞ্চলের মানুষের উপর স্টিম রোলার চালাইতো।

প্রাচীন বাংলার ইতিহাস – প্রাচীন বাংলার জনপদ কতটি

প্রাচীন বাংলার ইতিহাস একটি কালজয়ী ঘটনা ক্রমে চক্রে যুগের পর যুগের শাসকদের জয় পরজয়ের মধ্যে দিয়ে প্রাচীন জনপদ গুলি বিলুপ্ত হয়ে যায়। প্রায় ২০০০০ বছর পূর্বের প্রস্তর যুগের এবং প্রায় চার হাজার বছরের পুরনো তাম্রযুগের ধ্বংসাবশেষ বাংলায় পাওয়া গেছে। প্রাচীন বাংলার জনপদ কতটি I 

ইন্দো-আর্যদের আসার পর অঙ্গ, বঙ্গ এবং মগধ রাজ্য গঠিত হয় খ্রিষ্টপূর্ব দশম শতকে । এই রাজ্যগুলি বাংলা এবং বাংলার আশেপাশে স্থাপিত হয়েছিল । অঙ্গ বঙ্গ এবং মগধ রাজ্যের বর্ণনা প্রথম পাওয়া যায় অথর্ববেদে প্রায় ১২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে । মহাভারতে পৌন্ড্র রাজ বাসুদেব এর উল্লেখ পাওয়া যায় । এছাড়া চেদি রাজ‍্য আধুনা ভাওয়াল এর কাছে অবস্থিত । মগধরাজ জরাসন্ধ মহাপরাক্রমশালী নৃপতি ছিলেন। মহাভারতে পাওয়া যায় বঙ্গরাজ সমুদ্রসেন ও চন্দ্রসেন ভীমের দিগ্বিজয় আটকে দিয়েছিল । এরা বঙ্গের অতি পরাক্রমশালী নৃপতি ছিলেন ।

খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক থেকে বাংলার অধিকাংশ অঞ্চলই শক্তিশালী রাজ্য মগধের অংশ ছিল । মগধ ছিল একটি প্রাচীন ভারতীয়-আর্য রাজ্য । মগধের কথা রামায়ণ এবং মহাভারতে পাওয়া যায় । বুদ্ধের সময়ে এটি ছিল ভারতের চারটি প্রধান রাজ্যের মধ্যে একটি । মগধের ক্ষমতা বাড়ে বিম্বিসারের (রাজত্বকাল ৫৪৪-৪৯১ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) এবং তার ছেলে অজাতশত্রুর (রাজত্বকাল ৪৯১-৪৬০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) শাসনকালে । বিহার এবং বাংলার অধিকাংশ স্থানই মগধের ভিতরে ছিল । প্রাচীন বাংলার জনপদ কতটি I 

৩২৬ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের সেনাবাহিনী মগধের নন্দ সাম্রাজ্যের সীমানার দিকে অগ্রসর হয় । এই সেনাবাহিনী ক্লান্ত ছিল এবং গঙ্গা নদীর কাছাকাছি বাংলার বিশাল বাহিনীর মুখোমুখি হতে ভয় পেয়ে যায় । এই বাহিনী বিপাশা নদীর কাছে বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং আরও পূর্বদিকে যেতে অস্বীকার করে । আলেকজান্ডার তখন তার সহকারী কইনাস এর সাথে দেখা করার পরে ঠিক করেন ফিরে যাওয়াই ভাল ।

মৌর্য সাম্রাজ্য মগধেই গড়ে উঠেছিল । মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য । এই সাম্রাজ্য অশোকের রাজত্বকালে ভারতের অধিকাংশ, বাংলাদেশ,পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অবধি বিস্তার লাভ করেছিল । পরবর্তীকালে শক্তিশালী গুপ্ত সাম্রাজ্য মগধেই গড়ে ওঠে যা ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তরাংশে, বাংলাদেশ ও সম্ভবত পাকিস্তানের কিছু অংশেও বিস্তার লাভ করেছিল। প্রাচীন বাংলার জনপদ কতটি I

 

 

সবশেষে বলতে চাই প্রাচীন বাংলার জনপদ কতটি নিয়ে যে তথ্য গুলি শেয়ার করেছি আশা করি অনেক ভালো লেগেছে এবং উপকার হয়েছে। এই রকম তথ্য পেতে হলে আমাদের ওয়েবসাইট টি ফলো করতে হবে। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন নিরাপদ থাকবেন। এতক্ষন আমাদের ওয়েবসাইটের সাথে থাকার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Leave a Comment